Info

এনজেট ট্যাবলেট এর কাজ কি? খাওয়ার নিয়ম, দাম ও সতর্কতা

MD BELAL
Written by MD BELAL, Tech Specialist Experienced IT & Digital Technology Specialist with expertise in web development, AI prompt engineering, and digital content management. Passionate about leveraging artificial intelligence tools and modern web frameworks to build efficient, user-centric platforms and scalable web applications. • 3 References Tested

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজের চাপ, পারিবারিক দুশ্চিন্তা কিংবা নানা কারণে মানসিক অস্থিরতা ও বিষণ্ণতা ভর করাটা আজকাল খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় এই মানসিক চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে শরীর ও মনের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে যায়। ঠিক এই ধরনের মানসিক অবসাদ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং বিষণ্ণতা দূর করতে চিকিৎসকরা প্রায়ই একটি পরিচিত ওষুধের নাম প্রেসক্রিপশনে লিখে থাকেন যার নাম এনজেট (Anzet)।


হাতের কাছে প্রেসক্রিপশন বা ওষুধের পাতাটি নিয়ে অনেকেই ইন্টারনেটে খোঁজ করেন এনজেট ট্যাবলেট এর কাজ কি কিংবা এটি কীভাবে খেতে হয়। আপনার মনে থাকা সকল প্রশ্নের সহজ, নির্ভুল এবং বিস্তারিত উত্তর নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের এই আর্টিকেলটি।

এনজেট ট্যাবলেট এর কাজ কি
1

এনজেট ট্যাবলেট সম্পর্কে আগে জেনে নিন

যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে তার মূল উপাদান এবং প্রস্তুতকারক সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।


বিষয়বিস্তারিত তথ্য
ওষুধের নামএনজেট (Anzet)
জেনেরিক বা মূল উপাদানফ্লুপেনথিক্সল ০.৫ মি.গ্রা. + মেলিট্রাসেন ১০ মি.গ্রা. (Flupenthixol 0.5 mg + Melitracen 10 mg)
ওষুধের ধরনঅ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ও অ্যানজিওলাইটিক (বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তা রোধক)
প্রস্তুতকারক কোম্পানিপপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি (Popular Pharmaceuticals PLC)
প্রতি পিসের দাম৫ টাকা (সময় ও স্থানভেদে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে)
2

Anzet ট্যাবলেট এর কাজ কি?

খুব সহজ কথায় বলতে গেলে, Anzet ট্যাবলেট এর কাজ হলো মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোকে শান্ত রাখা এবং মনের বিষণ্ণতা দূর করে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা। আমাদের মস্তিষ্কে কিছু রাসায়নিক উপাদান বা নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন ডোপামিন, সেরোটোনিন) থাকে, যেগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হলে আমরা অকারণে দুশ্চিন্তা করি বা মনমরা হয়ে থাকি। এনজেট ট্যাবলেট সেই রাসায়নিক উপাদানগুলোর ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

চিকিৎসকরা সাধারণত নিচের সমস্যাগুলোর সমাধানে এই ওষুধটি খাওয়ার পরামর্শ দেন:

  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ (Anxiety): সবসময় মনের ভেতর অজানা ভয়, বুক ধড়ফড় করা বা অস্থিরতা কাজ করলে তা কমাতে এটি দারুণ কাজ করে।

  • মানসিক অবসাদ ও বিষণ্ণতা (Depression): কোনো কিছুতেই ভালো না লাগা, সবসময় মন খারাপ থাকা এবং কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলার সমস্যা দূর করে।

  • উদাসীনতা বা ক্লান্তি (Apathy): শারীরিক কোনো বড় রোগ না থাকা সত্ত্বেও মানসিক কারণে শরীর সবসময় দুর্বল বা ক্লান্ত লাগলে তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

  • সাইকোসোমাটিক সমস্যা: অনেক সময় মানসিক চাপের কারণে মাথাব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা বা পেটের সমস্যা দেখা দেয়। এই ধরনের মানসিক চাপজনিত শারীরিক অস্বস্তি কমাতে এনজেট ব্যবহৃত হয়।

  • মেনোপজ পরবর্তী বিষণ্ণতা: নারীদের মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হরমোনের পরিবর্তনের কারণে যে মানসিক অস্থিরতা ও মন খারাপ তৈরি হয়, তা নিয়ন্ত্রণেও এটি দেওয়া হয়।

3

Anzet 0.5 mg এবং Anzet 10 mg এর কাজ কি? (একটি সাধারণ ভুল ধারণা)

অনেকেই ইন্টারনেটে আলাদাভাবে Anzet 0.5 mg এর কাজ কি, Anzet 10 mg এর কাজ কি অথবা এনজেট ০ ৫ কিসের ঔষধ লিখে সার্চ করেন। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া খুব জরুরি।


এনজেট মূলত দুটি আলাদা পাওয়ারের ওষুধ নয়; বরং একটি ট্যাবলেটের ভেতরেই এই দুটি উপাদান একসাথে মেশানো থাকে। ওষুধের পাতার গায়ে লেখা থাকে Flupenthixol 0.5 mg + Melitracen 10 mg। অনেকে এই দুটি সংখ্যা দেখে মনে করেন এগুলো বোধহয় আলাদা ওষুধ।


চলুন দেখে নিই এই দুটি উপাদানের কোনটির কী কাজ:


  1. ফ্লুপেনথিক্সল ০.৫ মি.গ্রা. (Anzet 0.5 mg অংশের কাজ): এটি একটি নিউরোলেপটিক উপাদান। অল্প মাত্রায় এটি মস্তিষ্কের অতিরিক্ত অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে এবং মনকে শান্ত রাখে।

  2. মেলিট্রাসেন ১০ মি.গ্রা. (Anzet 10 mg অংশের কাজ): এটি একটি ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট। এর মূল কাজ হলো মনের বিষণ্ণতা ও জড়তা কাটিয়ে শরীরে ও মনে সতেজ ভাব ফিরিয়ে আনা।

অর্থাৎ, এনজেট ০.৫ এবং ১০ মি.গ্রা. সম্মিলিতভাবে একটি ট্যাবলেট হিসেবেই আপনার দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা দূর করতে কাজ করে।

4

এনজেট ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

মানসিক প্রশান্তির এই ওষুধটি সঠিক নিয়মে না খেলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না, বরং ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তাই এনজেট ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিশেষ সচেতনতা প্রয়োজন:


  • প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণ মাত্রা: সাধারণত প্রতিদিন ২টি করে ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় একটি সকালে এবং একটি দুপুরে।

  • তীব্র সমস্যার ক্ষেত্রে: রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে চিকিৎসক সকালে ২টি এবং দুপুরে ১টি ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।

  • বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে (৬৫ বছরের ওপরে): সাধারণত প্রতিদিন সকালে ১টি করে ট্যাবলেট দেওয়া হয়।

  • মেইনটেন্যান্স ডোজ (সমস্যা কমে আসার পর): প্রতিদিন সকালে ১টি করে ট্যাবলেট।

  • খাবার আগে না পরে? এটি খাবারের আগে বা পরে যেমন খুশি খাওয়া যায়, তবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ভরা পেটে খাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো।

একটি জরুরি টিপস: এনজেট ট্যাবলেট কখনোই রাতে বা ঘুমানোর আগে খাবেন না। কারণ, এর মধ্যে থাকা উপাদান মস্তিষ্ককে সতেজ ও সক্রিয় করে তোলে। তাই বিকেল ৪টার পর বা রাতে এটি খেলে আপনার নির্ঘুম রাত কাটতে পারে (Insomnia হতে পারে)। সবসময় সকাল ও দুপুরের মধ্যে এর ডোজ শেষ করতে হয়।

5

এনজেট ট্যাবলেট এর দাম কত?

পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস-এর তৈরি এই ওষুধটি দেশের যেকোনো ফার্মেসিতে খুব সহজেই পাওয়া যায়।


  • প্রতি পিস এনজেট ট্যাবলেট এর দাম: ৫.০০ টাকা।

  • ১ পাতা বা স্ট্রিপের দাম (১০টি ট্যাবলেট): ৫০.০০ টাকা।

  • ১ বক্সের দাম (১০x১০ বা ১০০টি ট্যাবলেট): ৫০০.০০ টাকা।

(নোট: স্থান ও ফার্মেসি ভেদে খুচরা মূল্যে সামান্য তারতম্য হতে পারে।)

6

এনজেনটা (Angenta) এবং এনজিটর ১০ (Anzitor 10) এর কাজ কি? (নামের বিভ্রান্তি ও সতর্কতা)

ওষুধের নামের উচ্চারণ কাছাকাছি হওয়ার কারণে অনেকেই এনজেট-এর সাথে এনজেনটা এবং এনজিটর ১০ গুলিয়ে ফেলেন। অথচ এদের মধ্যে একটি একই ওষুধ হলেও অন্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রোগের ওষুধ!


১. এনজেনটা ট্যাবলেট এর কাজ কি (Angenta Tablet)


আপনি যদি জানতে চান এনজেনটা ট্যাবলেট এর কাজ কি, তবে উত্তর হলো এনজেট এবং এনজেনটা হুবহু একই ওষুধ। দুটিরই মূল উপাদান Flupenthixol 0.5 mg + Melitracen 10 mg। পার্থক্য শুধু কোম্পানিতে। এনজেট তৈরি করে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, আর এনজেনটা (Angenta) তৈরি করে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (Healthcare Pharmaceuticals)।


তাই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা কমাতে এনজেট-এর বদলে চিকিৎসকের পরামর্শে এনজেনটাও ব্যবহার করা হয় এবং এর দামও প্রতি পিস ৫ টাকা।


২. এনজিটর ১০ এর কাজ কি (Anzitor 10 Tablet)


এখানেই সবচেয়ে বড় সতর্কতা প্রয়োজন! নামের উচ্চারণ কাছাকাছি হলেও এনজেট (Anzet) এবং এনজিটর ১০ (Anzitor 10) আকাশ-পাতাল পার্থক্যের দুটি ওষুধ।

  • এনজিটর ১০ এর কাজ কি? এনজিটর ১০ (প্রস্তুতকারক: স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস) হলো রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বা চর্বি কমানোর ওষুধ। এর মূল উপাদান হলো Atorvastatin 10 mg। এটি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে হৃদ্‌রোগীদের দেওয়া হয়।

  • তাই ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনার সময় বানান দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন চিকিৎসক আপনাকে দুশ্চিন্তার জন্য Anzet দিয়েছেন, নাকি রক্তের চর্বি কমানোর জন্য Anzitor 10 দিয়েছেন।

7

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

নির্ধারিত মাত্রায় খেলে এনজেট ট্যাবলেটে সাধারণত বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। তবে শুরুর দিকে কারও কারও ক্ষেত্রে নিচের সমস্যাগুলো হতে পারে:


  • রাতে ঘুম না আসা বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা (যদি বিকেলের পর খাওয়া হয়)।

  • সামান্য অস্থিরতা বা ঝিমুনি ভাব।

  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা তৃষ্ণা পাওয়া।

  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটে হালকা অস্বস্তি।


যাদের জন্য এনজেট খাওয়া নিষেধ বা সতর্কতা প্রয়োজন:


  1. গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে: গর্ভবতী মা এবং বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েদের ক্ষেত্রে এই ওষুধটি না খাওয়াই ভালো। একান্ত প্রয়োজন হলে অবশ্যই গাইনি বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

  2. হৃদ্‌রোগী: যাদের সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বা হার্টের রিদমে বড় ধরনের সমস্যা আছে, তাদের এটি খাওয়া নিষেধ।

  3. হঠাৎ ওষুধ বন্ধ না করা: এই জাতীয় ওষুধ একটানা কিছুদিন খাওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হুট করে একদিনেই বন্ধ করে দেবেন না। এতে মাথাব্যথা, প্রচণ্ড অস্থিরতা বা পুরনো লক্ষণগুলো আবার ফিরে আসতে পারে। ডোজ কমিয়ে ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হয়।

8

নিজের ইচ্ছে মতো ট্যাবলেট খাওয়া উচিত

দুশ্চিন্তা বা ঘুম হচ্ছে না তাহলে কি নিজের ইচ্ছামতো ট্যাবলেট খেয়ে নেবেন? না বিষয়টা এরকম একদমই না আপনি অবশ্যই ডাক্তারের  শরণাপন্ন হয়ে এরপর তার চিকিৎসা মতে ঔষধ সেবন করবেন।

Community Q&A

3 Questions
Q: এনজেট কি ঘুমের ওষুধ?
Expert & Community Answer: না, এনজেট কোনো ঘুমের ওষুধ নয়। এটি মূলত দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা কমানোর ওষুধ। বরং এটি রাতে খেলে ঘুম নষ্ট হতে পারে, তাই এটি সবসময় সকালে ও দুপুরে খেতে হয়।
Q: এনজেট ট্যাবলেট কতদিন খেতে হয়?
Expert & Community Answer: এটি নির্ভর করে রোগীর মানসিক অবস্থার ওপর। সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত চিকিৎসকরা এটি খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে একটানা খাওয়া উচিত নয়।
Q: এনজেট খেলে কি ওজন বাড়ে?
Expert & Community Answer: দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট জাতীয় ওষুধ সেবন করলে এবং মানসিক দুশ্চিন্তা কমে গেলে খাবারের রুচি বাড়ে, যার ফলে শরীরের ওজন কিছুটা বাড়তে পারে। তবে নিয়মিত হাঁটাচলা ও সুষম খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

Expert & Community Tips

  • (Medical Disclaimer): এই আর্টিকেলে দেওয়া সকল তথ্য শুধুমাত্র পাঠকদের সাধারণ সচেতনতা ও প্রাথমিক ধারণার জন্য নির্ভরযোগ্য মেডিকেল সোর্স থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। যেকোনো মানসিক বা শারীরিক সমস্যার জন্য নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Be the first reader to vote if this guide helped you.

Did this step-by-step guide help you?

About This Article

MD BELAL
Written by:

MD BELAL

Tech Specialist

This article was written by MD BELAL. Experienced IT & Digital Technology Specialist with expertise in web development, AI prompt engineering, and digital content management. Passionate about leveraging artificial intelligence tools and modern web frameworks to build efficient, user-centric platforms and scalable web applications. Dedicated to providing clear, reliable step-by-step guidance and practical knowledge for our readers.
Categories: Info

Related Posts